প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং
শূন্য পাস: জিপিএ-৫ এর আড়ালে শিক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ধস

শূন্য পাস: জিপিএ-৫ এর আড়ালে শিক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ধস
ডেস্ক রিপোর্ট মোঃ সুমন সরদার
এসএসসি পরীক্ষায় এবারও দেশের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে ‘শতভাগ ফেল’ বা ‘শূন্য পাস’ কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক অশনি সংকেত। এই পরিস্থিতির দায় এককভাবে কারও ওপর চাপানো সম্ভব নয়; এটি শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামোর এক যৌথ ব্যর্থতা।
ফেলের নেপথ্যে বহুমাত্রিক কারণ
যে বিষয় গুলো প্রতিয়মান মনে করা হচ্ছে
শিক্ষকদের সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক মানসিকতা: গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক স্কুলে মানসম্মত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের মারাত্মক অভাব রয়েছে। তার ওপর একশ্রেণীর শিক্ষকের শ্রেণীকক্ষে পড়ানোর চেয়ে কোচিং বা প্রাইভেট বাণিজ্যের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ শিক্ষার্থীদের মূল ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।
২ প্রযুক্তি ও মোবাইল আসক্তি: আধুনিক যুগে প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ার টেবিলে বসার আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মনোযোগ ও মেধা দুটোই ধ্বংস করছে।
৩ পারিবারিক সচেতনতা ও অবাধ স্বাধীনতা: সন্তানদের অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়া এবং ব্যস্ততার অজুহাতে অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া শিক্ষার্থী বিচ্যুতি বাড়াচ্ছে। পড়ার খাতা বাদ দিয়ে সন্তান কোথায় সময় কাটাচ্ছে, সেই নজরদারির অভাব স্পষ্ট।
শিক্ষা নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব: শিক্ষা ক্ষেত্রে ঘন ঘন পরীক্ষা পদ্ধতি ও কারিকুলাম পরিবর্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়কেই বিভ্রান্ত করছে। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতি ও পরিচালনা পর্ষদের অদক্ষতার কারণে বহু স্কুল কেবল কাগজ-কলমে টিকে রয়েছে, কিন্তু শিক্ষার মান শূন্যের কোঠায়।
করণীয় ও উত্তরণের পথ
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতা: প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক আধুনিক ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রাইভেট নির্ভরতা বন্ধে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
ডিজিটাল আসক্তি রোধে যৌথ উদ্যোগ: পরিবার ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে। সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
অভিভাবকদের সচেষ্ট ভূমিকা: অভিভাবকদের সন্তানের প্রতিদিনের লেখাপড়া ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নিয়মিত সময় দিতে হবে।
রাষ্ট্রীয় তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ: যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক শূন্য পাসের ঘটনা ঘটছে, তাদের এমপিও বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে, সনদভিত্তিক শিক্ষার চেয়ে মানসম্মত ও জীবনমুখী শিক্ষা যেন অগ্রাধিকার পায়।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। একটি ছেলেও যদি কোনো স্কুল থেকে পাস না করতে পারে, তবে তা পুরো রাষ্ট্রের জন্য ব্যর্থতা। সরকার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এক হয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; অন্যথায় এই সংকট পুরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিন